সম্পর্কে ওমের মিলন না হলে সম্পূর্ণ মানুষ চেনা যায় না। নতুবা অপেক্ষার পারদে তাকিয়ে থাকতে হবে। যেমন বাথরুমে মানুষ নিজেকেও চেনে খুব গোপন ভাবে। নাহলে খুব হালকা ভাবে। যারা নিজেদের চেনাতে চায় না। লুকিয়ে রাখে সযত্নে, তাদের কী ভাবে চিনবে? কীভাবে জানবে কোন্ বেদনায় মানুষ কেঁদে ওঠে।
হাউ হাউ করে যে মানুষ কাঁদে না, সে কি ভালোবাসতে পারে? হয়তো আমরা জানতেই পারি না। চারিদিকে অজস্র ভালো মনের আনাগোনা। শুধু বাইরের রূপ দেখতে গিয়ে বারবার ঠকতে হয়। জীবন আমাদের কতকিছু দেখায়। তাইতো কবি বলেন, সব সৌন্দর্য আছে এই মনে। যেখানে ঈশ্বরের বসবাস। একজন ভালো বন্ধু, জীবন সঙ্গী হতে পারে।
খুব ছোট থেকে, আমি প্রতিনিয়ত দেখে চলেছি। কৌতূহল আমায় বারংবার বেত্রাঘাত করেছে তবুও জানবার… দেখবার স্বাদ মেটেনি। কী আছে মানব দেহে? শেষবারের মতো আমিও বাঁচতে চেয়েছি। বুঝেছি বেঁচে থাকাই জীবনের আসল মানে।
ভালোবাসতে চেয়েছি। ঘর বাঁধার থেকেও হৈ-হুল্লোড় করে নিজের রক্তের শিশুর সঙ্গে ব্যাট বল খেলতে চেয়েছি। নিজের ভাই বোনকেও এত মন দিয়ে দেখিনি বড়ো হওয়া। তাই আর একবার মানবশিশু কে’ও একটু একটু করে পলে পলে বড়ো হতে দেখতে চাই। সারাদিনের ক্লান্তি আমাকে আরও পরিশ্রম আরও বেশি মানুষের সংস্পর্শে যাওয়ার আগ্রহ তৈরী করেছে। যখন যাওয়ার রাস্তায় সব গলির আলো নিভে যায় তখন পিছন ঘুরে আবার হাঁটতে হয়।
এই পৃথিবীতে সবাই বলতে চায়! শোনবার লোক কম। তাই আমি শ্রোতা হয়েছি এবং জানি যে মাসি ফেভারিট কেবিনের কাছে পেয়ারা বিক্রি করে, কয়েকদিন আগেই তাঁর ছেলের বিয়ে হয়েছে। যে দাদা ট্রেনে বাদাম বিক্রি করে, তাঁর আজ খুব শরীর খারাপ। সে আজ আসতে পারেনি। খড়দায় বিশুদা’ চায়ের দোকান খোলেনি, শ্বশুর বাড়ি গেছে মালদায়।
এ ও তো একরকম ভালোবাসা। যে কুকুর গলির মোড়ে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে। সকালে সূর্যের আলো ফাঁকফোকর থেকে ঢুকতে শুরু করলে মনে হয় আমাকে জাগাতে চায়… ভালোবাসার ওমে।
আমি কতটা স্বার্থপর? যতটা আমায় হতে হয়েছে স্বার্থের তৃতীয় হাতে। ভালোবাসা অপারগ কী ভীষণ নির্মোহ। জ্বলিয়ে পুড়িয়ে দেয় এই মন তচনচ করে। তারপরেও মানুষ ভালোবাসতে চায়, হয়তো ঠকে তবুও ভালোবাসা! মনের কথা প্রাণের কথা বলার আকুতি ঝর্ণার মত অবিরাম ঝরে ঝরে পড়ে।
আমরা দূর থেকে পাহাড় দেখি। কফি খেতে খেতে বলি, আহা বড়ো সুন্দর!
ছবি – পাবলো পিকাসো