অনিন্দিতা মণ্ডলের কবিতা
ছাদ গোটা ছাদ জুড়ে লেগে থাকে নুনের দাগ । অ্যান্টেনার গায়ে অস্পষ্ট শিলা বৃষ্টির সময় আঁকা। এ কোণ থেকে অন্য কোণ বাঁশে লাগান দড়ির উপর লাল নীল সবুজ সুতোর পুরাতন…
ছাদ গোটা ছাদ জুড়ে লেগে থাকে নুনের দাগ । অ্যান্টেনার গায়ে অস্পষ্ট শিলা বৃষ্টির সময় আঁকা। এ কোণ থেকে অন্য কোণ বাঁশে লাগান দড়ির উপর লাল নীল সবুজ সুতোর পুরাতন…
আলোকবর্ষ আমাদের মাঝে আছে এক আলোকবর্ষ প্রতিবার ফিরে ফিরে গেছে বুকের প্রতিধ্বনি তোমারই কাছে গোঙানি হয়ে.. আলাদা হেঁটে গেছে দুটো পথ যেখানে বৃষ্টির মতো করে সন্ধ্যা নেমেছে। হৃদয়ের কুয়ো ঘিরে…
কালযাত্রী ঝাপসা সময়ে বেড়ে ওঠা এক নর-নারী স্বপ্নের লোনা জলে ধুয়ে গেছে তাদের শরীর টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে তাদের আস্তিন বেয়ে ভীত হরিণীর মতো কালো শিরা এদিক ওদিক থেকে…
হাজারো চোখ তাকিয়ে আছে কারোর চোখের তৃষ্ণা কারোর চোখে আকুতি কারোর চোখ লাস্যময়ী কারোর নরম কারোর কঠিন তবে তোমার মতোন করে কেউ ডাকলো না তুমিও তো ডাকলে না আর….. তোমার…
তুমি বলেছিলে, প্রেম মানে নদীর ভাঙন, আর আমি বুঝেছিলাম, সেটা শরীরের মানচিত্রে আঁকা একটি অসমাপ্ত উপকথা। আঙুলের ডগায় জেগে ওঠে স্মৃতির হিরোগ্লিফ, চামড়ার নীচে জমে থাকা অলিখিত কবিতা রাতের আঁধারে…
আলুথালু অতি প্রাচীন বিসর্গচিহ্নের মত পাথুরে টিলাগুলো চারপাশ জুড়ে শুয়ে আছে যেন চিরবসন্তের আড়ালে অবসাদের স্নায়ুরেখা বেয়ে ওঠানামা করে চলেছে, উচ্চ ও নিম্ন মধ্যবিত্তের আশা আকাঙ্খার জীবনবাদী দর্শনধারা। ধরিত্রীর বুক…
প্রজ্ঞার বুকে… প্রজ্ঞার বুকে চিরতরে জ্বলি আমি দিপ দিপ টুং টাং সহস্র পদলোহিত ধ্বনির মায়া ফেলিয়া ঘুম নেই নেই ঘুম ঔদার্যে চাও মন দুঃখ কাহার বিদুর ? আহার করেছে ছিন্নভিন্ন…
কাগজের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকেল তখন খুব কাছে— একটি দুপুরে পোড়া বাসস্ট্যান্ড আমাকে নিয়ে ডুবে যাচ্ছে, রাস্তার ভাতের হোটেল কুড়িয়ে কাঁচিয়ে শেষ হাতা ভাতটুকু দিয়ে ফিরছে, কাকপক্ষীদের জমায়েত আলো কমিয়ে আনছে,…
শরীর যখন শিকল ভাঙে রাত তখন প্রায় ১১টা। শহরের ব্যস্ততা কমে এসেছে, কেবল রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলোর ম্লান আলো পথচারীদের ছায়া দীর্ঘ করে তুলেছে। একটি ক্যাফের কোণে বসে ছিল রাহাত। হাতে ধরা…
স্পর্শ আঁজলা ভরা জল রাখি এ মৃত্যুর বুকে হেঁটে যাই বহুদূর, গত জন্মের মেঠো আলপথ ধরে আর দেখি কীভাবে বিবাহসাজে সেজে ওঠে নিথর দেহ লাল পাড় শাড়ি, আলতা মাখা পা…