ওহে ক্রুশবিদ্ধ যুবা

শুনতে পাচ্ছ ছায়ার শব্দগুচ্ছ?  ভাবছ কেন নিহত রমণীর দেহ তোমার দেহের পাশে পড়ে আছে?  তুমি নিজেই লিখেছ তার সুদীর্ঘ ইতিহাস।  আর আড়াল বোলাচ্ছ যুবতীর নিরম্বু বুকে।  তোমার চিবুকের মতো তার ফুসফুসে অজস্র লেহনের ক্ষত।  তাও এই যূপকাষ্ঠের দেশে তার ঠাঁই নেই।  মণিবন্ধ কখন খুলেও আবার চাঁদের মতোন নখে ফিরে আসে।  তুমি অবাক হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো পাশ ফিরে।
যুবতীর শরীরে নিতান্ত প্রয়োজন তোমার কারারুদ্ধ জানলার প্রবৃত্তি।  তোমার ভেজানো দরজায় পায়ের ছাপ পড়ে রমণীর।  ভাবে তুমি ফিরেই যেতে বলো। হয়তো বা ফিরেও যায়।  তাও তোমার ধকধকে বুকে হাত রেখে দেখে পূর্বজন্ম, নাভিশ্বাস, আরো কিছু।  এ রমণী জানে, তুমি ঈশ্বরের ছেলে নও।  নিতান্ত কুমারী জরায়ুর ঋণ। তুমি রজস্বলা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আর্তনাদ।  তুমি একলা হাওয়ার দেশে ভেসে ওঠা ক্ষুণ্ণিবৃত্তি।
ধীরে ধীরে পৃথিবীকে পুনরুদ্ধারের যূপকাষ্ঠ খুঁজে দিতে তোমাকে দরকার হয়।  তুমি কঙ্কাল হও পাঁজরের ঘা-কে নিয়েই।  তুমি আসলেই সম্বল জানো না। অভিসম্পাত জানো না।  জানো না দেহক্ষরণের গভীরতর সন্দর্ভ-কথা।  তোমার সমাধিতে ঝুরো ঝুরো মাটি জড়ো হয়।  কালে কুমারী জননী জরায়ু পুঁতে যায় সেইখানে।  তুমি আকীর্ণ রমণীর ক্ষত হয়ে পৃথিবীতে বারবার ফেরো।  এখনো কান পাতছি রজঃক্ষরা পৃথিবীর বুকে।  তোমার জন্মজরুল আর্তনাদ দিয়ে চলছে জননীর গর্ভের মতো।  তুমি বুঝতে পারছ ততোধিক। মেনে নাও, তুমি কুমারী যোনির ক্ষুণ্ণিবৃত্তি ফসল, অথবা পৃথিবীর বিস্ময়ে তুমি ব‍্যক্তিগত জ্বরমাত্র কিছু।  তোমার সমাধিতে রমণী পুনশ্চ হেঁটে চলে যান।

ঐ দেখো ছত্রাক্কার পায়ের ছাপ!

 

ছবি – দালি

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Avatar photo

By সঞ্চারী দীর্ঘাঙ্গী

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক হয়েছেন, এখন চলচ্চিত্রবিদ‍্যায় স্নাতকোত্তর করছেন। অ্যাকাডেমিক নিবন্ধ লেখার পাশাপাশি কবিতা, গদ‍্য আর পেইন্টিং এ নতুন ভাষা খোঁজার চেষ্টা করছেন।

Leave a Reply