চুপরাজ্যে বৃষ্টি হয়ে গেল। ও’পারে শ্মশান। মেয়েটি জন্মগত দরজি। ও আমায় পথ ব’লে দেবে। ধ্রুবতারা। সুকুমারবৃত্তির মায়াজীবন দুপুরবেলা ঘুমিয়ে পড়েছিল। আমি ওদের প্রত্যেকের বুকে ঘাটশ্রাদ্ধের তির নিক্ষেপ করেছি। শ্মশানবন্ধু হবে আমার। তবে যে বলেছিল অনুদ্বিগ্ন মন হ’তে! শ্রীগুরু আশ্রমে নিবেদন গগনচারী হবে?

বুঝি ধোঁয়া। বুঝি ভালোবাসা নেই ব’লে মরে যাব মরে যাব। জ্বরের ঘোরে দু-চার কথা বলতে গেলেই সম্পর্কে দাঁড়ি পড়ে যায়। প্রথম প্রথম বিস্ময় চিহ্ন মনে ক’রে তরণী ছাড়ি না। তারপর দেখি অপযশে ছই পুড়ে গেছে। জলের সোহাগ বিনে থাকা যায় আর! এ’পাশে যে স্বর্গবাড়ি মনখারাপের সঙ্গ ক’রে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে কার অধিবাস, আমি জানি। আসলে জানার কথা হ’ল এই, সেখানেও সে থাকে না আজকাল। তবে? তবে যে আপেল নামতে নামতে হঠাৎ উঠে যাওয়ার কথা ছিল অথিরমন্ডলের সীমানা ছাড়িয়ে আরও ঊর্ধ্বে, কী হবে তার? কী হবে যদি সমান্তরাল মহাবিশ্বে সমান্তরাল সমনামী অপদেবতার আঁখিবিম্বে অধিবাস না ঘটে!

কী হবে আর কী হবে না, পঞ্চবটি থেকে ধেয়ে এসে এখন কানা ফকিরের আখরায়, এ বড় বিলাসিতার ভাব। সেই হেতু সজিনাডাঁটা সহযোগে তুরুলের মাটি মাটি ঝোল ভক্ষণ বিধেয়। সন্ধ্যামণির পাশে ব’সে গঞ্জিকায় মগ্ন হওয়া যাক। ভালোমানুষ দূরাগত। কখন কার ভালোটুকু নিয়ে একাকী দোসর হব শ্যামে, রাধাও জানে না। চূড়া নিমিত্ত মাত্র। জানা অভিশাপ; বিশেষ নিকট হ’লে আঁখি। যে চাওয়া আরও বেশি নিকটবর্তী গৃহ অভিমুখ, তার আবেগ স্বরান্তর বিষ। তাকে যদি কেটে ফেলি, ব্যথা হবে কার? আবেগ দফতর জানি, ক্রিয়াশব্দে ম্রিয়মাণ বিপরীত আলোর বাগানে। তবে ছুটি দিয়ে দিই আজ বসন্ত মালীকে। বসন্ত মালী আমায় গাছ দেবে বলেছিল, কোনোদিন দেখা হয় যদি। দেখা হ’ল। আরও বেশি গাছের নিবিড়ে গিয়ে স্তব্ধতার কূয়ায় পড়েছি যেদিন, ওর গায়ে সত্যি দেখেছি আমি আলো মহেশ্বরী কালাপানির ঢেউ। সারাদিন কেটে গেল। বৃষ্টি হ’ল সেই দিন। আর বন্ধুতার প্রথম চারাগাছ— সে-ও উধাও।

আজ খুব বারিষ বারিষ। মাথায় নৌকো নিয়ে দ্বীপের দেশ তৈরি করছে মরণ-ক্ষেপী বন্ধু সুজন। যদিও সে বন্ধু নয় কারও। কেউ-ই নাকি বন্ধু নয় তার। ওই দেশে রূপকথা লিখব ব’লে সোমবার রাত্রে জামিরের ঝোপে একটি জন্ম হ’ল আমার। বন্যবীজ নাম দিল, সোমনাথ। এইবার সোমনাথের চিঠি তার মিতার কাছে পৌঁছয় কি না পৌঁছয়, মুগ্ধ এক হাওয়া এসে দ্যুলোকান্তে ছড়িয়ে দিল জাল। কে কোথায় সঙ্গ করো লুপ্ত কাজল শমথের, সবাই এই ফাঁদে এসে পড়ো। ভানু সিংহ ঋত্বিক আমাদের। নইলে কোথায় ভেসে যেতাম এমন অতি বর্ষাঘোর নিদ্রার বিকেলে!

রাত্রে ভাসানগানে যাব। অথচ উর্বর দুই ক্ষেতের মাঝে কবিয়ালে আনন্দ অন্তরায়। কাকে পড়ি অক্ষরে অক্ষরে? করোটি-বাক্য পড়ে মনে হয়, আমি নই? ভ্রমণ-বাক্যে? দূর-বাক্যে নই আমি? মহাবাক্য ফিরে আসে জন্মদিন দূরে ফেলে রেখে। সে আমার জন্মান্তর জানে। জাতবেদা। কাজল পূর্ববর্তী জনমের অবশিষ্ট মন্ত্র-অঙ্গার। দ্যুতি যদি পরগ্রহে যায়, সে-ও এক চক্ষের লোভ। হারিয়ে যদি বা যায়, তা কি আগলে বসে থাকার! ধূলায় একাকার পুণ্যমধুর মেঘ। নাম সার্থক করি। শুধু কি নিজেকে নাকি? অপরাহ্ন লতার হৃদয়ে তাকেও আমি হাওয়া করি আজ…

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply