পুনর্জাগরণ
জানুয়ারির এক বিষণ্ণ সন্ধ্যা। কুয়াশায় ঢাকা শহরের নীরবতা ভেঙে যাচ্ছে দূরের মসজিদের আজানে। কাজী রফিক একটি পুরনো মোমবাতির আলোয় বসে তার সাপ্তাহিক কলামের খসড়া লিখছেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব রফিক একসময় বিপ্লবের মশাল বহনকারী এক নিবেদিতপ্রাণ বামপন্থী ছিলেন। কিন্তু আজ তিনি রাজনীতির ছেঁড়া দড়ি ছুঁড়ে ফেলে নিজের মধ্যেই এক শূন্যতা অনুভব করেন।
ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা তার ছোট্ট মেয়ে নীলার শীতের জামাটিও যেন সেই শূন্যতারই প্রতীক। রফিকের বামপন্থী আদর্শ তাকে বড় কোন চাকরি করতে দেয়নি। তিনি আজকাল অনলাইনে লিখে সামান্য উপার্জন করেন, যা তাদের সংসারের জন্য যথেষ্ট নয়।
হঠাৎ, দরজায় কেউ করাঘাত করল। রফিক দরজা খুলে দেখলেন, শওকত—তার পুরনো সংগঠনের এক সদস্য। চোখে-মুখে তীব্র উত্তেজনা নিয়ে শওকত বলল, “রফিক ভাই, আমাদের আন্দোলন আবার জেগেছে! এবার পুঁজিবাদী শক্তিদের বিরুদ্ধে বড় কিছু হবে। আপনাকে আবার প্রয়োজন।”
রফিক কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। ভেতরে নীলার জামাটির দিকে তাকিয়ে তিনি ভাবলেন, আদর্শের জন্য আবারও লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, নাকি নিজের সংসারের শূন্যতা ভরাট করবেন?
অবশেষে তিনি শওকতের দিকে তাকিয়ে বললেন, “চলো।”
শওকত খুশি হয়ে চলে গেল, কিন্তু রফিক জানতেন, তিনি আদর্শের নয়, এক নতুন গল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। একটি কলাম লিখবেন, যেখানে সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে বামপন্থী মন্ত্র মিশিয়ে দেবেন—সত্যিকারের বিপ্লব এখন কাগজের মধ্যেই হবে। হতেই হবে।
ছবি – দালি