১
কাঁচের জানালায় অন্ধকারের দাগ,
চাঁদের আলোতে ভাসমান উনিশটা গোপন শব্দ।
মনে হয়, শব্দেরা মিথ্যে হয়ে গেছে!
ডায়েরির পাতায় আজকাল কেবলই শূন্যতা।
সত্যের সংজ্ঞা কি পাল্টে যায়?
গোলাপ কি আর রক্তের প্রতীক নয়?
সমস্ত আকাশ জুড়ে একদল ক্লান্ত কবিতা
ফিরে যায় নিজ নিজ ভূগোলে,
আমাদের সময় ফুরিয়ে গেছে?
কে জানে, হয়তো কোনো পুরোনো নোটবুকে
কিছু হারিয়ে যাওয়া শব্দ এখনো খোঁজে
নিজেদের অস্তিত্বের শেষ বিন্দু।
২
একটা বিকেল ছিল, রোদে মাখা—
একটা বিকেল ছিল, বৃষ্টি ভেজা।
এখন বিকেল মানেই স্মৃতির হিমবাহ,
যেখানে কেবলই ছায়া ভাসে।
আমি ভুলে গেছি ব্যাকরণ,
ভুলে গেছি বাক্যের গঠন।
জল আর আকাশ মিশে গেছে,
মানুষ আর ছায়া একাকার।
সন্ধ্যারা আসে নীরব,
নক্ষত্রেরা মুখ লুকোয় পর্দার আড়ালে,
আমরা কি তবে কেবলই
ভাষাহীন কিছু অনুচ্ছেদ?
৩
দেয়ালে ঝুলছে পুরোনো এক আয়না,
ওপাশে কে দাঁড়িয়ে থাকে?
সময় কি এখানে বিপরীত মুখী?
প্রতিচ্ছবি কি আসলেই আমার?
গোলাপগুলো বিবর্ণ আজকাল,
শব্দেরা পথ হারিয়ে ফেলে।
ভাষা আজ কাঁচের মতো ভঙ্গুর,
অক্ষররা কেবলই ছড়িয়ে যায়।
তুমি কি শুনতে পাও,
সে কণ্ঠস্বর,
যা কোনোদিন উচ্চারিত হয়নি
তবু প্রতিধ্বনিত হয় চিরকাল?
৪
একটা রাত—ফসিল হয়ে গেছে,
তারারাও আজকাল টিমটিম করে না।
হয়তো অতীতের কবরেই বসবাস আমাদের,
নতুন সকাল বলে কিছু নেই।
দেয়াল ঘড়ির কাঁটা আটকে আছে,
সময় গলে যায় চোখের কোণে।
অক্ষর গুলিয়ে যায় কফির কাপে,
তুমি কি আর চিঠি লেখো না?
জানালার ওপারে পুরোনো একটি ডাকবাক্স,
ভেতরে কেবলই অনন্ত শূন্যতা।
একটা গল্প শেষ হয়ে গেল,
কিন্তু উপসংহার পাওয়া গেল না!
৫
একটা সময় ছিল—
যখন শব্দেরা কথা বলত।
গাছেরা কবিতা আবৃত্তি করত,
সমুদ্রের ঢেউ ছিল ব্যাকরণের বাহক।
এখন সব কিছু নির্বাক,
শব্দেরা কোথায় হারিয়ে গেল?
সমস্ত বাক্য যেন অনুবাদহীন,
অর্থহীনতার গভীর চোরাবালিতে ডুবে আছে।
তুমি কি এখনো শুনতে পাও,
সেই পুরোনো কবিতার অনুরণন?
নাকি সব শব্দ চিরতরে
হারিয়ে গেছে কালের অতল গহ্বরে?
৬
এই শহরের গন্ধ পাল্টে গেছে,
রাস্তাগুলোও নতুন নাম ধারণ করেছে।
মানুষের মুখে এখন অন্য ভাষা,
স্মৃতিগুলো হয়ে গেছে অবিশ্বাস্য গল্প।
আকাশের নিচে এক নতুন সময়,
যেখানে পুরোনো ব্যথারা নিষিদ্ধ।
ঘড়ির কাঁটা ছুটে চলে,
কিন্তু গন্তব্য কি জানে কেউ?
মনে হয়, আমরা কেবলই কিছু সংখ্যা,
যারা হারিয়ে গেছি হিসাবের খাতায়।
একটা নতুন গল্প শুরু হবে,
কিন্তু পুরোনো চরিত্রেরা কি থাকবে?