রঘু জাগুলীয়ার কবিতা

বৃষ্টি

এখন ঘাসফুলের মতো ধুলোমাখা বিকেলে বৃষ্টির ঝমঝম শুনে যাচ্ছি। অথচ কতদিন বৃষ্টির দেখা নেই এদিকে।

যখনই কোনো পুরোনোদিনের কথা ভাবি, মনে হয় মানুষের সঙ্গে মানুষের সাদামাটা কথাবার্তাগুলো বৃষ্টির মতো ঝমঝম হয়ে আছে।

 

অপরাজিতা

অপরাজিতা ফুলের মতো নীল
একটা দুপুর খুঁজে বেড়াই।
কষা বেলের গন্ধের মতো টক টক দুপুর।
এমন কোনো কোনো বাগান, বন্যতা নিয়ে আছে,
তার ছায়ান্ধকার দৃশ্য ও ঐশ্বর্য্য
দেখে মনে হয়, এই বেশ ভালো ছিল।

সেইসব দিনে,
ভয়ের স্বপ্নেও আরও কত পথ চলে গেছে।
সেইসব দিনের কথা এখনো দু-চারটে জেগে থাকা
রাতে কাছে আসে —
এখনো দুপুরে
সমস্ত নীল রঙ যেন অপরাজিতারই।

 

বাইনের ছায়ায়

বাইন গাছের ছায়ায় বসে থাকি
সেতারের শব্দের মতো জলের সুর
বনের সুবজে মিশে যায়—
যেন পুরোনো বন্ধুদের দেখা হল।

এখানে শশ্মান, ফেরীঘাট, স্কুল,
বাজারে যাওয়ার পথগুলো সবার এক;
এখানে স্বপ্নের বিকেলগুলো ঝরা হলুদ
পাতার মতো উড়ে যায়

সারি সারি জঙ্গলের গাছ দেখে
মনে হয়, যেন সব মানুষের মুখ
একে অন্যের দুঃখে
একদিন দাঁড়িয়ে পড়েছিল।

 

ভবঘুরে

যাব, একদিন একটি নিঃসঙ্গ আলোর কাছে
যাব, যেকোনো সময় প্লবতার সূত্র ধরে,
কেননা, বহুদিন এই গাছ-পাথরের ভিড়ে
আমিও কেমন বহুদূরের আবছায়া অন্ধকারে
মিটমিট করা তারাদের চেয়ে দেখি—
মনে হয় তারা বড় কাছাকাছি আছে!

যেভাবে কোনো লঞ্চনৌকো
উচু উচু বাড়ির মতো ঢেউ থেকে
মাঝসমুদ্রের দিকে চলে যায়—
আমিও ওরকমভাবে দূরে যাব…

এছাড়া একটা ভ্রমণকাহিনী আর
কীভাবে লেখা হবে?

মৃত্যু

আমি যে বন্ধ ঘরটায় এখন বসে আছি
তার মতো দেখতে বাইরের পৃথিবী একদম যে হবে না,
এইটা তো ১০০% নিশ্চিত বলা যায় না

তাই মৃত্যুকে, আমি কিছুটা এভাবে দেখেছি
নিজের ঘরের আয়নায়।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply