পৌষ ও পরমান্ন
১.
আলো ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসে। তুমি না ঘুমিয়ে রয়েছ বহুকাল বুকের ভিতর নক্ষত্রের আলোয় ভেজা বাউল গানের ঢেউ নিয়ে, ভাবতে ভাবতে সেঁধিয়ে যাচ্ছ আধ সিদ্ধ পরমান্নর ধোঁয়ায়। একটা দুটো পিঁপড়ের ক্ষিদের ছাপ— দুঃখ রেখে যাচ্ছে সারি সারি। এক বছরে কত ভাঙচুর হয় কত অপচয় হয় বয়সের! অথচ তুমি হামাগুড়ি দিয়ে আঁকড়ে ধরো জোনাকি— শুভেচ্ছা পাওয়ার দিন আলোময় হয়ে ওঠে।
২.
এসো ছায়ার পাশে বসো, উবু হয়ে দেখো হিসেবের কাটাকুটি, বাতিল কবিতার গায়ে এঁকে দাও কোকড়ানো মোম লতার পাতা, ভরা বাজার থেকে কিনে নিয়ে এসো আধ কিলো মাংস কিংবা অবিন্যস্ত শীত কাতুরে গুজব, দাঁতে চেপে ধরো জিভ সিগারেট ভেবে। সমস্ত দিন কাবার হয়ে যাক, আহ্লাদী গায়ে এসে বসুক ডানা ভাঙা মথ। গল্প লিখতে লিখতে ফ্রিজে তুলে রাখো আয়োজন, সবাই ঘুমিয়ে গেলে সতর্কে গিলে নাও কোরিয়ান রামেন নুডলস্।
৩.
দেবতারা অনেক কিছু জানেন— এই ভেবে চুপিসারে বেড়ে ওঠো, পায়েস এর স্বাদে ভুলে যাও সমস্ত অক্ষমতা, দু চোখ বন্ধ করে টের পাও আনন্দ— বাবা স্নান সেরে ধুয়ে দিচ্ছে কালী মন্দির, মা আয়ুতে বেঁধে দিচ্ছে বিপত্তারিণী তাগা, লক্ষীর ভাঁড়ে ঝনঝন শব্দের ঘনত্ব ক্রমশ বাড়ছে, অ্যাকোয়ারিয়ামে জন্ম নিচ্ছে শখের বুদবুদ, জানালায় ভেসে আসছে পাহাড়ি কুয়াশা। সব বদলে যাচ্ছে, কুঁড়ি থেকে লাল জবা ফুটে উঠছে তীব্র শীতে পরম আনন্দে। যত বয়স বাড়ছে তোমার ভিতরে হেসে উঠছে ছটফটে ছেলে বেলা।
৪.
যা চেয়েছ তা হতে পারিনি— নিপুণা করেছ বড্ড তাই শীতকাল এলে দূরে চলে গেছি বড় উঠোন পার করে হাওয়াদের সাথে, আটকে গেছি বাঁধানো ঘাটে। এত দূরত্ব সহ্য হয়না এত ভয় রাখতে পারিনা বুকে— সাদা সন্ধ্যামণির মতো আলো দেখে গুটিয়ে যাও। কুয়াশা পড়ছে, কাঠবেড়ালি নতুন ধান জড়ো করছে নির্ভয়ে দেখো, তোমার বয়স বাড়ল আবার। আনন্দ হচ্ছে— আমার থেকে একটা করে আয়ু তোমায় দিতে গিয়ে তোমাকে আজীবন ভালোবেসে যেতে হবে।
ছবি – লেখক
