সে যেন এক সবুজ গ্রহ
আমি ঘুরি তার কক্ষপথ
যেভাবে প্লুটোর চাঁদ শ্যারন।
বিষন্ন হলে অভিশপ্ত কয়েদখানার
স্মৃতিটুকু জাগিয়ে তুলি।
তাকাই-
থেতলে যাওয়া হাতের নখ,
নির্দয় প্রহরীর বুটের তলা।
পলক ফেলার আগেই
যে পাখিটা উড়ে গেল
তাকে ছুঁতে পারি না।
ফুটোর আড়ালের আলোটুকুতে
খুঁজি সান্ত্বনা।
তারপরও হাঁটি-
শেবন্দীর বিস্তীর্ণ মাঠে
একাকী দাঁড়িয়ে থাকা
তালগাছের পাতায় পাতায়
ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা।
ঠিক যেভাবে আমি ঝুলে আছি
তার কক্ষপথে!
বায়োস্কোপ
বায়োস্কোপের বাক্সটার সমস্ত কৌতুহল
একটা গোলগাল ছিদ্র।
বিস্ময়ের চোখ দেখে-
দৃশ্য-এক:
গ্রাম পেরিয়ে একটা নদী।
প্রজাপতির ঝাঁকের ওপাশে
মোটা কাপড়ের কামিজের ভেতর
শুভ্রতর শেমিজ।
তারপর টুপ করে ডুব দিয়ে গেল
একটা প্রাপ্তবয়স্ক শালিক।
বায়োস্কোপওয়ালা চরকি ঘুরানোর আগেই
সবুজ দূর্বাঘাসের ডগায় এঁকে রাখি
কোলাহলের আড়ালে লুকানো
বাদামী দুইটা তিল।
দৃশ্য-দুই:
বগলে লাঠি হাতে কালো চশমার যুবক
পর্বতের রহস্য ধরতে যায়
ক’টি পাথর সরে গেলে
শুনশান আওয়াজ ধরে মেপে নেয়
খাদের গভীরের কান্না।
দৃশ্য-তিন:
অযত্নে পড়ে থাকা কাচপৃষ্ঠে
ফু দেয়া পাতলা কুয়াশায়
স্নানবিদ্যার আদ্যোপান্ত লেখা।
বানান করে পড়তে গেলেই মুছে যায়
সিনেমা দেখে সংলাপ ভুলে যাবার
যন্ত্রণার মতন।
এরপরও বায়োস্কোপের ছিদ্রে
তাকিয়ে রই-
ভিজে যাওয়া সাদা শেমিজের অপেক্ষায়।
গিরিখাদের গভীরতা মাপতে যাওয়া যুবকের বিষাদ কিংবা বিস্ময়ের অপেক্ষায়।