সোনাদিয়া গোমস, তোমায় ঢিচক্যাও! ভাগ। দেশভাগ। চেয়েছি বিষের পাতিল। মিস লাইটের প্রেমে ডুব, লাবডুব… লাবডুব… যারা গতকাল মঞ্চ কাঁপিয়ে ফিরে এলি, নমো করি বাপ! বরং যে ভ্যাগাবন্ড চতুর্পাশ দেখে নিয়ে আমায় হাওয়াজ্ঞান ক’রে মূত্র… তাঁকে সেলাম বস! ও তো জুজু অফিসার পাগলখানার। বেহেড মাতাল শচিনও ওঁকে সমঝে চলে বাওয়া! মুখ বুজে প্রসাদগীতির উইল টাইপ ক’রে চলে তোমার চোখের পাতায় গোমস। তোমার প্লেটে মাংস। আর্যভট্ট তত্ত্বানুসারে যুবতি। অতএব তুমি সমান্তরাল আর আমিই মাংস। খদ্দরের ভেগান। সরোদবাদক বন্ধু ঘুরিয়ে আমাকে ছাগল। আমিই ছাগল। আমি মাংস।
সোনাদিয়া গোমস— ঢিচক্যাও! তুমি ভ্যানিশ!
ভবতারিণীর চাতালে কতকাল অপেক্ষার বিরাজ, এই কথা ভাবি দিনমান। চটি ছেড়ে সমুখপানে যায় সকলে, হাতে জবাফুল। আরতিসময়ে আমি তোমার চটিজোড়া নিয়ে অকুস্থলে চলমান হই। খুঁজি, পুরুষের কামনা অঙ্গে কোনখানে পায়েসের বাটি ঢাকা দেওয়া আছে? পথের কুকুর এসে হেলাফেলা ক’রে অর্ধেক খেয়ে যায় যদি! বুড়ো আঙুলের ভারে চেপে ধরি ওর গলা। এইভাবে অমরতা হয়ে যায়। অমরতা চোখের আয়না ছিল জন্মসুখে; আজ কেন বিন্দুবৎ গর্ভকেশরের মনে, এ উত্তর আসেনি জীবনে।
আয়নার ওইপারে তুমি অন্য পুরুষের সুধা খেয়ে মেতে ওঠো। ওইপারে আমি শাদা সালোয়ার পরা মৃত্যুদেবীর ঠোঁট নিয়ে উদ্বেল হবো। এ সমস্ত হবে তোমার দ্বিতীয় মৃত্যু হয় যদি! প্রথম মরণে আমি পাগলের মতো পাতাল খুঁড়েছি… মরা ব্যাঙ, সাপের খোলস, মানুষের হাড় বিক্রি ক’রে এত বিত্ত হয় জেনে দ্বিতীয়বার মরা বুকে দুপুরে ঘুমাব, এ কথায় কোনো দ্বিধা রেখেছি কি! ঘুমের মাজার-জলে যে সারস খেলবে ব’লে কাছে এসেছিল, ঘূর্ণন দেখাই তাকে। হিমানীসম্ভব এই আমি সারা স্বপ্ন জেগে জেগে চঞ্চু বাড়িয়ে আদর খাওয়া ও’পাখিকে ধবলী-জ্যোৎস্নার সরে সরে যাওয়া কিরণ দেখিয়েছি অহর্নিশ। জ্যোৎস্নায় গ্রীবামুগ্ধ স্নান! ঝাপসা স্খলনে আমি জলাশয় ভুল করি। লোকনীতি ভুল করি যুবার অনলে। তোমাকেই তাই উপযুক্ত ঝর্ণা নির্বাচনের দায়িত্ব সঁপেছি রাজেন্দ্রনন্দিনী গোমস! লাবণ্য ধরছে না মুখে। জানি এখনি প্রশ্ন করবে তুমি ভবিষ্যৎ প্রতীতি বিষয়ে। জানি, শূন্য তুণীরে তুমি খুঁজে নেবে জল…
ক্ষমা— দেখি, পদ্মের মতো খুব সাদা। জলে না গেলে পারব কি নিতে অত সাদা!
রাজজ্যোতিষী এখন আমার দেবীকে নূপুর বলেছে। রূপার নূপুর। আমি মাংস, আমিই নূপুর। কবিতা পাঠাই শালা, সূর্য দেখি মদ খায়। মদে টাল। ছেঁড়া কন্থা গায়ে দিয়ে কত আর বাক্য লিখি বাল! সোনাদিয়া গোমস, তুমি কোন মার্তা রিবেদা! দূর হটো! পালকবন্ধু জ্বরে মুহ্যমতী। এখন নিজ ব্রহ্মতালু পেয়ে গাঁইতি মেরে বলি, ওর এই কষ্ট পাওয়া দিনে কবিতা তোর গুঁজে দেব অমিতবেণের ছাল!
বলি আর ম্যাকুডাইনি বারবনিতার, ওফেলিয়াটি যমবেদেনীর মন পেয়ে দেখি, দেখি মাইরি, কায়া থেকে সটকে গিয়ে কবি হ’ল বাজনদারের ড্রাম! মহাতারা তাসাপার্টি, কেন ওকে দল করে নিচ্ছ না? এ বাজনদারের ভুঁয়ে বসে এত রে অবাক সুন্দরী! বরং এই তো ভূত, যে অবশেষ এখনও সরগমে বেদনাহীন।
কিছুই জানতে চাই না আর পুত্রগৌরব বিষয়ে। তুমি কেবলই স্নান; আমি কেবলই কালো একটি দেয়াল বিপজ্জনকভাবে দেবদেবীদের চালচিত্রের মতো সংঘর্ষে রেখে দেব, পথের সুমতি। আমার উত্তরাধিকার নিয়ে খেলা করো নন্দিনী। তুমি বোঝো, স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে গ্রীষ্মকালমুখে চলে যায়? কান্তপুরুষের কাছে সবকিছু বন্ধক রেখেছি আজ।
তাই তো সেলেব সোনা…
সোনা উড়ে যাও বিবাহমন্ডপে। কপিকল বসেছে এখন। ঝুলে পড়ো। বুকের সিলিন্ডারে কান পাতি। অহোঃ কবেকার জ্বলন আজও অনার্য রেখেছ পাতিলেবুবনে? লেবুবনে যে কিশোরী শয়ন পেতেছে, তার শুভাশিস নিতে শুধু দেরি হয়ে যায়।
… দেরি হয়ে যায়। দ্যাখো বাওয়া, এই আমি প্রাথমিক ডন। আহারে… তবু নিরাকার পাৎলুন কেন খোলে হায়! ছত্রপতি হব না জীবনে, তুমি তো জানোই গোমস। কেন যে চোখের নিচে রাণীগঞ্জ বড় হয়ে ওঠে! এ কি লিভারের দোষ, নাকি স্বপ্নকুসুম, সব কথা তুমি জানো দিয়া। তোমার চিন্তাপানি ছলকে ছলকে ওঠে। সোজাসুজি দৃষ্টিপথে বলে ওঠো— এই আমি মৃত। আমায় বাঁচতে বলো দীর্ঘ দীর্ঘকাল। অমলতাসের ছায়ায় বসে চুপটি করে ভেবো সুধাময়ী, এ তোমার অভিশাপ নয়!
চিরবর্ষা এ জীবনে ছাতা খুলি ক্যালানেচরণ। হিউ এন সাঙের ছাতাময় থলে যদি পাওয়া যেত সোনা…
— আপনি আনন্দময়।
— হ্যাঁ। আমি অর্বাচীন।
— আপনি ভিখিরি, অযথা রুধির পিয়াসী।
— হ্যাঁ, আমি ক্ষয় করি রোজ মেডালার কসমস।
তবু বর্ষা ফুরোল না। তবু শাদা শয়নের ঋণী। এ অস্থি চর্ম জেনো খুঁজেও পাবে না তুমি জীবিত নরকের দেশে। হে বঙ্গাল, ধোকলা কিনে দাও। সারাৎসার গীতবিতান ঢুকে গেছে নর্দমায় বানে। ধোর! কী তবে মাথায় দেব আর! ধোকলা গো…
ছড়াও ঘিলু। কুড়ুল যেন ললাট মধ্যস্থল। ছড়াও আঃ! দেবীকে নিবেদন করি। বলিপ্রিয়া দেবী, কী ছাতায় লাউ কেটে মরো! আ তু তু… মাথায় আঘাত করো। সন্ধিপুজো রক্ত করে দাও। দেবীর কবিতাসময় পানকৌড়ির গ্রীবা করে দাও।
— দেখছো দিয়া? সোনাদিয়া দ্যাখো ছায়াটিকে।
… জল কাটছে … জল কাটছে। কাটতে কাটতে, কাটতে কাটতে গাঙুর কমছে… অন্ধ দিয়া! সাদা দিয়া! একাকী দিয়া দ্যাখো, তোমার কাছে হাঁটু গেড়ে ব’সে কালো পদ্ম পদ্মান্তর ছিঁড়ে রেখে দিই ছায়া তোমার পায়ের পাতায়। বিগতনাগ হাওয়া ফিরে গেলে অন্ধ যুবক, ধূসর যুবক, ঐ কঙ্কালীতলা ছেলে (নাকি বিচ্ছেদ-বৃক্ষের ছায়া!) পালকের জ্বরের দিন তালবাদ্য সহযোগে খায়।